পোকামাকড় নেই এমন বাসা খুঁজে পাওয়া ভার। পোকামাকড় একবার বাড়িতে ঘাঁটি গেড়ে বসলে তা দূর করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে ঘরকে পোকামুক্ত করা যে পুরোপুরি অসম্ভব তা কিন্তু নয়। একটু সচেতন হলেই এই সমস্যা দূর করা সম্ভব।

আসুন জেনে নেই, ঘরকে পোকামুক্ত রাখার কিছু সহজ উপায়। 

বেকিং সোডা: প্রাকৃতিক কিলার হিসেবে পরিচিত বেকিং সোডা। ঘরের যে সকল স্থান দিয়ে পোকামাকড় প্রবেশ করতে পারে সে সকল স্থানে বেকিং সোডা ছিটিয়ে রাখুন। কিছুদিন পর ভ্যাকিউম ক্লিনার দিয়ে বেকিং সোডা পরিষ্কার করে ফেলুন। তারপর আবার বেকিং সোডা ছিটিয়ে রাখুন ঘরের বিভিন্ন স্থানে। এটি ঘরের পোকা মাকড় দূর করে দেবে।

ভিনেগার: রান্নাঘরের উপাদান ভিনেগার দিয়ে দূর করতে পারেন পোকামাকড়। এক অংশ ভিনেগার এবং দুই অংশ পানি মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি ঘরের আনাচে কানাচে ব্যবহার করুন। দেখবেন পোকার বংশ ধ্বংস হয়ে গেছে।

শসা দূর করে তেলাপোকা: শসা কাটার সময়ে দুপাশের অংশ আমরা ফেলেই দেই। এগুলো না ফেলে সংরক্ষণ করুন। এগুলোকে রেখে দিন বিভিন্ন কোণায়, কাপবোর্ডের ভেতরে, আলমারির ভেতরে। এগুলোতে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান তেলাপোকা পছন্দ করে না ফলে তারা এসব জায়গায় আসবে না।

গোল মরিচের পেস্ট: তেলাপোকা নামের যন্ত্রণাদায়ক উপদ্রবের হাত থেকে রেহাই করবে একটি পেস্ট। গোলমরিচ গুঁড়া, পেঁয়াজ, রসুন এবং পানি দিয়ে পেষ্ট তৈরি করে নিন। পেষ্ট কিছুটা তরল করে তৈরি করবেন। এবার এটি স্প্রের বোতলে ভরে রাখুন। যেখানে তেলাপোকা দেখবেন সেখানে স্প্রে করুন। দেখবেন তেলাপোকা পালিয়ে গেছে। শুধু তেলাপোকা না অন্যান্য পোকা মাকড়ের হাত থেকে আপনার ঘরকে রক্ষা করবে।

ইঁদুর রোধ করতে ব্যবহার করুন স্টিলের স্ক্রাবার: ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র বা দেয়ালে ফুটো থাকলে ইঁদুর সেখানে আরও বড় গর্ত করে ফেলে এবং আসবাবপত্রের ভেতরে ঢুকে পড়ে। এই যন্ত্রণা রোধ করতে এসব ফুটো হয় মেরামত করে ফেলুন নয়তো এখানে স্টিলের স্ক্রাবার গুঁজে দিন যাতে ইঁদুর এসব জায়গা দিয়ে যাতায়াত করতে না পারে।

পিপারমেন্ট অয়েল: পোকা পিপারমেন্ট অয়েলের গন্ধ সহ্য করতে পারে না। কিছু পরিমাণ পানির সাথে আট ফোঁটা পিপারমেন্ট অয়েল মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি স্প্রের বোতলে ভরে রাখুন। ঘরের প্রতিটি কোনায় এটি স্প্রে করুন। ভিনেগার এবং পিপারমেন্ট এসেনশিয়াল অয়েল একসাথে মিশিয়েও ব্যবহার করতে পারেন। অধ্যয়নরত

পুদিনা পাতা: পোকা দূর করতে পুদিনা পাতা বেশ কার্যকর। কিছু পরিমাণ পুদিনা পাতা কুচি করে বিছানা বা ম্যাট্রেসের চারপাশে ছিটিয়ে দিন। এছাড়া কাপড়ের ভিতরে রাখতে পারেন পুদিনা পাতা। পোকা দূর করার পাশাপাশি কাপড়ে একটি সুন্দর গন্ধ পাবেন।

বাধা তৈরি করুন পিঁপড়ার রাস্তায়: পিঁপড়া অনেক ছোট হবার কারণে তাদের থামিয়ে দেওয়াটা একটু সহজ বড় প্রাণী বা পোকার তুলনায়। মরিচের গুঁড়ো, গোলমরিচের গুঁড়ো অথবা লবণের একটা লাইন তৈরি করুন তাদের চলাচলের রাস্তার ওপরে। এছাড়াও সাধারণ চক দিয়েই দাগ টেনে দিতে পারেন তাদের রাস্তার ওপর। তারা এসবের ওপর দিয়ে চলাচল করতে চাইবে না এবং অন্য পথে চলে যাবে। এছাড়াও পুদিনা রাখতে পারেন তাদের রাস্তায় অথবা যেখানে এদের উৎপাত বেশি সেখানে লবঙ্গ বা ইউক্যালিপটাসের তেল মেখে রাখতে পারেন।

পাইপের ফুটো মেরামত করে ফেলুন দ্রুত: ঘরের বিভিন্ন পাইপ এবং কলে লিক বা ফুটো দেখা যেতে পারে। এগুলো দ্রুত সারিয়ে নিন। কারণ এই পানি চুইয়ে যে স্যাঁতস্যাঁতে অবস্থার তৈরি করে তা তেলাপোকা এবং অন্যান্য পোকাগুলোর খুব প্রিয় জায়গা। মেরামত না করলে এখানেই এরা বংশবৃদ্ধি শুরু করবে।

সিলিকা জেল: ওষুধের মাঝে ছোট ছোট যে প্যাকেট থাকে সেটাকে সিলিকা জেল বলে। এই সিলিকা জেল পোকা তাড়াতে বেশ কার্যকর।

পানি জমিয়ে রাখবেন না: ফুলের টবে, রান্নাঘরের বেসিনে, ওয়াশরুমের অব্যবহৃত পাত্রে পানি জমিয়ে রাখবেন না। এমনকি বাড়ির আশেপাশেও কোথাও পানি জমে থাকে কিনা খোঁজ নিন। এসব পোকার জন্মস্থান ধ্বংস করতে পারলে উপদ্রব কমে যাবে নিশ্চিত।

কিচেন রাখুন পরিষ্কার এবং গোছানো: একটা দিন কিচেন পরিষ্কার না করলেই দেখবেন কী পরিমাণে পোকা এসে উপস্থিত হয়েছে। যে কোনো ময়লা পড়লে সেটা উঠিয়ে ফেলুন। উচ্ছিষ্ট খাবার ফ্রিজে অথবা মিটসেফে তুলে রাখুন। ওভেন এবং ফ্রিজ পরিষ্কার করুন নিয়মিত। এতে সারাবছর কিচেন থাকবে পোকামুক্ত।

জিনিসপত্র নাড়াচাড়া করুন: প্লাস্টিকের ব্যাগ, তোয়ালে, বিছানাপত্র, কসমেটিক্স, বাক্স- এসব হালকা জিনিস কিছুদিন পর পরই নেড়েচেড়ে অন্য জায়গায় রাখুন, ঝেড়েমুছে নিন। কারণ এগুলোর মাঝে তেলাপোকা এবং বিভিন্ন পোকামাকড় বাসা বাঁধতে পারে যদি বেশি সময় একই জায়গায় ধুলো জমতে দেন।


তথ্য সংগ্রহে: আব্দুল আজিজ ইবনে শফিক

অধ্যয়নরত, ঢাকা কলেজ, ঢাকা।

মতামত দিন