আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় লবণ একটি গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য উপাদান। খাবারে স্বাদ আনতে লবণের বিকল্প নেই।পরিমিত লবণ গ্রহণে খাবারের স্বাদ অক্ষুণ্ণ থাকে এবং শরীরের কোনো ক্ষতি হওয়ার সুযোগ থাকে না। এটি দেহের জলীয় অংশের সমতা রক্ষা করে, আবার পেশি সংকোচন, দেহের মধ্যস্থিত সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের মধ্যেও সমতা রক্ষা করে। কিন্তু অতিরিক্ত লবণ গ্রহণের ফলে বিভিন্ন রোগ হতে পারে। আপনি প্রতিদিন যে পরিমাণ লবণ খান, তা কিছুটা কমিয়ে দিলে উচ্চরক্তচাপ ও নানা ধরনের হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে পারেন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের একদল বিজ্ঞানীর এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি দিনে ৬ গ্রাম বা তারও কম লবণ গ্রহণ করতে পারেন।
আমাদের দেশের উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীদের কাঁচা লবণ কম খেতে উপদেশ দেয়া হয়। কিন্তু অনেকেই ভুল ভেবে রান্নায় লবণের পরিমাণ বাড়িয়ে দেন কিংবা লবণ ভেজে তারপর খান। কিন্তু লবণ ভাজলে পানি শুকিয়ে গেলেও এর সোডিয়াম ক্লোরাইডের পরিমাণ ঠিকই থাকে। তাই যতটা সম্ভব রান্নায় কম লবণ ব্যবহার করাই অধিকতর উত্তম। অধিক লবণ গ্রহণের ফলে আমরা যে সকল রোগে ভুগে থাকি, তার বর্ণনা এখানে দেয়া হলোঃ
১. উচ্চ রক্তচাপ: লবণের অতিরিক্ত সোডিয়াম ক্লোরাইড শরীরের রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। এই উচ্চ রক্তচাপের কারণে হার্ট ফেইলিউর, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, কিনডি ফেইলিউরের মতো সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। তাই উচ্চ রক্তচাপের রোগীকে অতিরিক্ত লবণ খেতে নিষেধ করা হয়।
২. পিপাসা বেড়ে যাওয়া: বেশি লবণ খেলে পিপাসা বেড়ে যায়। কারণ এটি দেহের কোষে পানির ভারসাম্য রক্ষায় অসুবিধা হয়। শরীরে অতিরিক্ত পানি ধরে রাখে যা কিডনির ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।
৩. পা ফোলাভাব: চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত লবণ খাওয়া কখনো কখনো হাত ও পায়ে পানি জমায়। এতে হাত ও পা ফোলাভাব হয়। এটি কিডনি রোগী এবং উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য খুব ঝুঁকির কারণ।
৪. অস্টিওপোরোসিস: অতিরিক্ত লবণ গ্রহণে শরীরের পানির পিপাসা তৈরি হয়। এতে অতিরিক্ত পানি গ্রহণ করতে হয় এবং প্রস্রাবের পরিমাণ বেড়ে যায়। এতে অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম শরীর থেকে প্রস্রাবের মাধ্যমে বেড়িয়ে যায়। এতে হাড় দুর্বল এবং ভঙ্গুর হয়।
৫. কিডনিতে পাথর হওয়া: অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ কিডনিতে পাথরের সৃষ্টি করে। তাই পরিমিত পরিমাণ লবণ গ্রহণ সুস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
৬. পাকস্থলীর ক্যান্সার: অতিরিক্ত লবণ গ্রহণের কারণে পাকস্থলীর ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে অধিক লবণ পাকস্থলীর ত্বক নষ্ট করে।  তখন পাকস্থলী এক ধরণের ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয়। যার ফলে পাকস্থলীর ক্যান্সার হয়।

যেভাবে অতিরিক্ত লবণ পরিহার করবেন: আমরা অনেকে বুঝতে পারি না কিভাবে অতিরিক্ত লবণ পরিহার করা যায়! এমন কি অনেক সময় দেখা যায় রান্নার সময় লবণ কম দিলেও শরীরে অতিরিক্ত লবণ পাওয়া যায়! একটু ইচ্ছে থাকলেই অতিরিক্ত লবণ গ্রহণের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। বাড়তি কাঁচা লবণ বা পাতে লবণ খাওয়া পরিহার করুন। আমরা সবাই প্রক্রিয়াজাত খাবার যেমন চিপস, ক্রেকার্স, কেচআপ, লবণ-বাদাম, পনির পছন্দ করি। কিন্তু হয়ত অনেকেই জানি না যে এটাই আমাদের প্রধান শত্রু। প্রসেসড ফুডে সোডিয়াম মেশানো হয় সংরক্ষণের জন্য। বরই, তেঁতুল, আমলকী, আমড়া, জলপাই এ জাতীয় টক ফল লবণ দিয়ে খাওয়ার অভ্যাস পরিত্যাগ করুন। দেখবেন প্রয়োজনের অতিরিক্ত লবণ আর খাওয়া হচ্ছেনা।

তথ্য সংগ্রহে: আব্দুল আজিজ ইবনে শফিক, অনার্স (অধ্যয়নরত), ঢাকা কলেজ।

মতামত দিন