দেশের সর্ববৃহৎ অরাজনৈতিক ধর্মীয় সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও হাটহাজারী মাদরাসার সহযোগী পরিচালক স্বনামধন্য মুহাদ্দিস আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেছেন, বিশ্বনবী (সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর মুহাব্বাত ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। রাসুল (সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) লক্ষ-কোটি মুমিনের প্রাণের স্পন্দন। মুমিন-মুসলমানগণ রাসুল (সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)  কে নিজের প্রাণের চেয়েও বেশি মুহাব্বাত করেন। রাসুল (সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ইজ্জত- সম্মানের উপর কোন আঘাত ঈমানদার সহ্য করতে পারে না। সরলমনা সাধারণ মুসলমানদেরকে ধোকা দেয়ার জন্য নাস্তিক মুরতাদরা রাসুল (সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর বহু-বিবাহ সম্পর্কে নানান অবান্তর প্রশ্ন করে। নাস্তিকদের ভিত্তিহীন প্রশ্নের সমোচিত জবাব দিতে হবে।

গত ১৫ই সেপ্টেম্বর শনিবার দারুল উলুম হাটহাজারী মাদরাসায় হাদীসের অন্যতম কিতাব বোখারী শরীফের পাঠদানকালে “বহু-বিবাহ” অধ্যায়ের ৪৮৭৬ নং হাদীস সম্পর্কে আলোচনাকালে এসব কথা বলেন তিনি।

আল্লামা বাবুনগরী আরো বলেন, রাসুল (সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর বহু-বিবাহ জৈবিক চাহিদাপূর্ণ বা স্রেফ নিজ স্বার্থে ছিল না। বরং দ্বীনের স্বার্থে ছিলো। দ্বীনের স্বার্থেই রাসুল (সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বহু-বিবাহ করেছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)এর বহু-বিবাহের দরূন দ্বীন ইসলামের অনেক ফায়দা হয়েছে। হযরত খাদিজা রাযি. অনেক সম্পদের মালিক ছিলেন। রাসুল (সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর নিজের যাবতীয় ধন সম্পদ ইসলামের কল্যাণে খরচ করেছিলেন। যা ইসলামের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ আছে।

নাস্তিক মুরতাদদের নিকট প্রশ্ন রেখে আল্লামা বাবুনগরী বলেন, রাসুল (সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ২৫ বছর বয়সে ৪০ বৎসর বয়সি হযরত খাদিজা (রাযিআল্লাহু আনহা) কে বিবাহ করেছিলেন। যদি জৈবিক চাহিদা পূরণই রাসুল (সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)এর উদ্যেশ্য হত তাহলে পঁচিশ বৎসরের যুবক বয়সে রাসুল (সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কি চল্লিশ বছরের একজন বৃদ্ধাকে বিবাহ করতেন (???)  রাসুলুল্লাহ (সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর বহু-বিবাহের দরূন ইসলামের অনেক ফায়দা হয়েছে।   নারী সংক্রান্ত ইসলামের বিধি-বিধান উম্মতের অন্যান্য নারীদের নিকট পৌছে দেয়ার জন্য বহু-বিবাহের ভূমিকা দিবালোকের ন্যায় সু-স্পষ্ট। আবু সুফিয়ানের মেয়ে হযরত উম্মে হাবীবা (রাযিআল্লাহু আনহা) কে বিবাহের মাধ্যমে ইসলামের বিরুদ্ধে চলমান আবু সুফিয়ানের যাবতীয় ষড়যন্ত্র হেকমতের সহিত নস্যাৎ করে দিয়েছিলেন। এর ফলে মক্কা বিজয়ের সময় হযরত আবু সুফিয়ান (রাযিআল্লাহু আনহু)ও কালিমা পড়ে ইসলামের সু-শীতল ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করে মুসলমান হয়েছিলেন।

আল্লামা বাবুনগরী বলেন, বহু-বিবাহের দরূন নাস্তিকরা রাসুল (সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)কে নারীলোভী বলে কটাক্ষ করে বিশ্বমুসলিমের কলিজায় আঘাত করেছে। তাই সরলমনা সাধারণ মুসলমানদের ঈমান রক্ষার্থে বহু-বিবাহ নিয়ে নাস্তিকদের অবান্তর প্রশ্নাবলীর দাঁতভাঙ্গা জবাব দিতে হবে।

মতামত দিন