আদর্শ নিউজ


আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ইয়েমেনে গত তিন বছর ধরে চলমান যুদ্ধে চরম পুষ্টিহীনতায় ভুগে পাঁচ বছরের কম বয়সী আনুমানিক ৮৫ হাজার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বিশ্বব্যাপী শিশুদের নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান সেভ দ্য চিলড্রেনের বরাত দিয়ে বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে সেভ দ্য চিলড্রেনের হিসেবের উল্লেখ করে বলা হচ্ছে, যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনে অুপষ্টিতে ভুগে যে পরিমাণ শিশুর মৃত্যু হয়েছে তা যুক্তরাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর বার্নিংহামের পাঁচবছরের কম বয়সী মোট শিশুর পরিমাণের সমান।

জাতিসংঘের হিসেব মতে, ইয়েমেনে গত তিনবছর ধরে চলা যুদ্ধে ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের কবলে পড়েছে। অর্ধেকের বেশি মানুষ দুর্ভিক্ষপীড়িত হওয়ায় দেশটিতে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় তৈরি করেছে বলে সতর্ক করে জাতিসংঘ। ইয়েমেন যুদ্ধ বন্ধ করে মানবিক বিপর্যয়ের হাত থেকে দেশটিকে রক্ষা করতে সব পক্ষকে আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

সম্প্রতি সেভ দ্য চিলড্রেনের প্রধান নির্বাহী হেলে থরনিং স্মিড বলেন, ‘ইয়েমেনের লাখ লাখ শিশু জানে না পরের বেলার খাবার কোথা থেকে আসবে কিংবা আদৌ আসবে কিনা। আমি উত্তর ইয়েমেনের একটি হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে দেখেছি, শিশুরা ক্ষুধার জ্বালায় এতই দূর্বল যে তারা কাঁদতে পর্যন্ত পারছে না। ক্ষুধা তাদের তাদের সম্পূর্ণ শরীরকে নিস্তেজ করে দিয়েছে।’ এই যুদ্ধ ইয়েমেনের পুরো একটা প্রজন্মকে ধ্বংস করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

সেপ্টেম্বরের শুরুতে সেভ দ্য চিলড্রেন জানায় ২০১৮ সালে পাঁচ বছরের কম বয়সী কমপক্ষে চার লাখ শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে। তারা সতর্ক করে বলে, বছর শেষ হওয়ার আগেই আরও ৩৬ হাজার শিশুর মৃত্যু হতে পারে।

২০১৪ সালে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সাবেক প্রেসিডেন্ট আলী আব্দুল্লাহ সালেহর প্রতি অনুগত সেনা সদস্যদের সঙ্গে একজোট হয়ে সানাসহ দেশের বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন সংঘাতে বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে ইয়েমেন। ২৬ মার্চ ২০১৫ থেকে ইয়েমেনে ‘অপারেশন ডিসাইসিভ স্টর্ম’ নামে সামরিক অভিযান পরিচালনা শুরু করে সৌদি আরব ও তার মিত্র দেশগুলো। ইয়েমেনের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট আব্দ-রাব্বু মানসুর হাদির কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ বিমান অভিযান পরিচালনা করা হয়। এর আগে দেশজুড়ে ইরান সমর্থিত শিয়াপন্থী হুথি বিদ্রোহীদের উত্থানের মুখে দেশ ছাড়েন মানসুর হাদি।

একসময় ইয়েমেনের মোট খাদ্য আমদানির ৯০ শতাংশই হুদাইদাহ বন্দর দিয়ে আসতো। বন্দরটি বর্তমানে বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সেভ দ্য চিলড্রেন জানিয়েছে, এ বন্দর দিয়ে বাণিজ্যিক আমদানির পরিমাণ এক মাসে ৫৫ হাজার মেট্রিক টন কমেছে। ৪৪ লাখ মানুষের খাদ্য চাহিদা মেটানোর জন্য তা যথেষ্ট ছিল। এর মধ্যে ২২ লাখ শিশু রয়েছে।

মতামত দিন