আদর্শ নিউজ । আন্তর্জাতিক ডেস্ক


নাইজেরিয়ার এক সময়কার রাজধানী এবং অন্যতম বন্দর রাজ্য লাগোসের উচ্চ আদালত ২০১৪ সালের অক্টোবর মাসে রাজ্যটির বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীর হিজাব পরিধান নিষিদ্ধ করে একটি বিতর্কিত রায় দিয়েছিল। কিন্তু ওই রায়ের বিরুদ্ধে করা এক আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৬ সালে আপিল আদালত হিজাব নিষিদ্ধ করে উচ্চ আদালতের দেয়া রায়কে মুসলিম জনগণের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ হিসেবে আখ্যায়িত করে তা নাকচ করে দেন।

কিন্তু লাগোস রাজ্যের স্থানীয় সরকার হাইকোর্টের রায়ে অসন্তুষ্ট হয়ে মামলাটিকে সুপ্রিম কোর্টে নিয়ে যায়।

তথাপি হঠাৎ করেই লাগোস রাজ্যের স্থানীয় সরকার নতুন একটি প্রজ্ঞাপন দ্বারা জানিয়েছে যে, সুপ্রিম কোর্টে যেহেতু মামলাটি চলমান রয়েছে তাই উচ্চ আদালতের প্রতি সম্মান দেখানোর পাশাপাশি ওই রায়কে আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একই সাথে রাজ্যের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে হিজাব পরিধানের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘যদিও হিজাবের বিরুদ্ধে করা মামলাটি নাইজেরিয়ার সুপ্রিম কোর্টে এখনো ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে তাই আদালত অবমাননা এড়াতে স্থিতাবস্থামূলক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীগণ বিদ্যালয়ে হিজাব পরিধান করতে পারবেন তবে হিজাব হতে হবে কিছুটা স্বল্প কাপড়ের, সুন্দর, পরিপাটি এবং বিদ্যালয়ের ইউনিফর্মের রঙয়ের সাথে মিল থাকতে হবে।’

‘কোনো শিক্ষার্থী কে ধর্মের উপর ভিত্তি করে বঞ্চিত করা যাবে না।’

‘বিদ্যালয়সমূহের প্রধান এবং শিক্ষকগণের ওপর এই প্রজ্ঞাপন বাধ্যতামূলক করা হল। আপনাদেরকে এই বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে হবে।’

রাজ্যের এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রতিক্রিয়ায় ‘The Muslim Students Society of Nigeria (MSSN)’ এর লাগোস রাজ্যের প্রধান সাহেদ আসহাফা এক বিবৃতিতে বলেন, রাজ্য সরকার সম্মানের পথে হাঁটা শুরু করেছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছি কারণ এর পূর্বে আমাদের সদস্যদের হিজাব পরিধান করার জন্য আক্রান্ত হতে হত, বৈষম্যের শিকার হতে হত, তাদেরকে শাস্তির মুখোমুখি করা হত এমনকি বিদ্যালয়ে প্রবেশে বাধা দান করা হত।’

‘আমরা রাজ্য সরকারে প্রতি বার বার আহ্বান জানিয়ে আসছি যে, হিজাব সম্পর্কিত মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে চলমান থাকায় এবং চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় থাকায় এখনো পর্যন্ত হিজাব পরিধান করার জন্য কোনো শিক্ষার্থীকে শাস্তি দেয়ার অধিকার কোনো শিক্ষকের নেই।’

‘আমরা আরো জানাতে চাই যে, এই প্রজ্ঞাপনের পরে বিদ্যালয়গুলোতে আইনের শাসন পরিপন্থী কোনো কিছু আমরা বরদাশত করবো না। এই প্রজ্ঞাপনের ফলে শিক্ষার্থীদের উপর বৈষম্যমূলক আচরণ কমে আসবে বলে আমরা আশা করি।’

‘বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অধ্যক্ষগণের প্রতি হিজাব বিরোধী কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়ায় আমরা এই প্রজ্ঞাপনের প্রশংসা করছি। এ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীগণ বিদ্যালয়ে এবং বিদ্যালয়ের বাহিরে হিজাব পরিধান করতে পারবেন এবং এতে করে শিক্ষা ক্ষেত্রে শান্তি বাজায় থাকবে।’

‘কোনো ধরনের বিরক্তি ছাড়াই যাতে করে তাদের অধিকার ভোগ করতে পারে সে জন্য আমরা মুসলিম নারী শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। একই সাথে অধিকার চর্চার পাশাপাশি তারা যাতে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে এবং নিজের ধর্মকে একটি শান্তিপূর্ণ ধর্ম হিসেবে অন্যের নিকট উপস্থাপন করে আমরা সে আশাবাদ ব্যক্ত করছি।’

মতামত দিন