কলা একটি পুষ্টিকর ফল। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, এই ফলে বেশ কিছু উপকারি উপাদান রয়েছে যা শরীর কে চাঙ্গা রাখে। সেই সঙ্গে হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়। কনস্টিপেশনের মতো সমস্যা দূর হয়, অ্যানিমিয়ার প্রকোপ কমে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটে চোখে পরার মতো। তবে এখানেই শেষ নয়, নিয়মিত কলা খাওয়া শুরু করলে আরও নানাবিধ উপকার পাওয়া যায়।

 

 

সম্প্রতি, ইউনিভার্সিটি অব অ্যালাবেমার গবেষকদের করা একটি পরীক্ষায় উঠে এসেছে এসব তথ্য। তারা জানাচ্ছেন, প্রতিদিন কলার মতো পটাশিয়াম সমৃদ্ধ ফল খাওয়া শুরু করলে আর্টারির কর্মক্ষমতা মারাত্মক বৃদ্ধি পায়। ফলে স্বাভাবিকভাবে হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটতে সময় লাগে না। হার্ট যখন ঠিক মতো কাজ করতে শুরু করে, তখন শরীর নিয়ে যে আর কোনও চিন্তা থাকে না, তা কি আর বলার অপেক্ষা রাখে! এখন প্রশ্ন হল হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটানোর পাশাপাশি শরীরকে সুস্থ রাখতে আরও কী কী ভাবে কাজে আসে এই ফলটি? আসুন বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক :-

১. ডায়াবেটিস রোগ দূর করে:

কলা খাওয়া মাত্র শরীরে কমবেশি ৩ গ্রামের মতো ডায়াটারি ফাইবারের প্রবেশ ঘটে। যার প্রভাবে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার সুযোগই পায় না। এ কারণেই তো টাইপ ১ এবং ২, দু’ধরনের ডায়াবেটিস রোগীদেরই এই ফলটি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। যদি এই  কঠিন রোগ থেকে দূরে থাকতে চান তাহলে কিন্তু নিয়মিত এই কলা খাওয়া জরুরি!

২. অ্যাস্থেমার প্রকোপ কমে:

বেশ কিছু স্টাডিতে দেখা গেছে, নিয়মিত একটা করে কলা খাওয়া শুরু করলে শরীরে এমন কিছু উপাদানের প্রবেশ ঘটে যে অ্যাস্থেমার প্রকোপ প্রায় ৩৪ শতাংশ কমে যায়। এমন রোগ থেকে বাঁচতে  রোজ রোজ কলা খান!

৩. হজম শক্তির উন্নতি ঘটে:

আয়ুর্বেদ শাস্ত্র মতে, কলার মধ্যে এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা পাচক রসের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই হজম প্রক্রিয়ার উন্নতি ঘটায়। তাই আপনার পেটটা যদি ঠিক না থাকে, তাহলে আজ থেকেই নিয়মিত কলা খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন উপকার মিলবে।

৪. এনার্জির ঘাটতি দূর হয়:  

শরীরে যদি শক্তি না পান তবে এমন পরিস্থিতিতে একটা কলা খেয়ে নেবেন। তাহলেই দেখবেন অনেক চাঙ্গা লাগবে। কারণ ক্লান্তি দূর করতে কলার কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। এই কারণেই তো অ্যাথেলিটদের রোজের ডেয়েটে আর কিছু থাকুক না থাকুক কলা থাকেই!

৫. ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়:

কলা খাওয়ার পর যদি কলার খোসা মুখে লাগাতে পারেন, তাহলে একদিকে যেমন ত্বকের রোগের প্রকোপ কমে, তেমনি স্কিনের হারিয়ে যাওয়া ঔজ্জ্বল্য ফিরে আসবে। আসলে কলার খোসার মধ্যে থাকা একাধিক উপকারি উপাদান  বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রসঙ্গত,  কলার খোসায় থাকা উপকারি ফ্যাটি অ্যাসিডও এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৬. ওজন নিয়ন্ত্রণে চলে আসে:

নিয়মিত কলা খেলে শরীরে পটাশিয়াম পাবেন। এছাড়া এতে প্রচুর মাত্রায় ফাইবার রয়েছে, যা অনেকক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে। ফলে খাওয়ার পরিমাণ কমতে শুরু করে। আর কম খেলে যে ওজনও কমে, সে কথা কার আজানা? প্রসঙ্গত, ফাইবার কনস্টিপেশনের মতো রোগ সারাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৭. অ্যানিমিয়ার মতো রোগের প্রকোপ কমে:

কলায় রয়েছে বিপুল পরিমাণে আয়রন, যা শরীরে লোহিত রক্ত কণিকার মাত্রা বৃদ্ধি করার মধ্যে দিয়ে অ্যানিমিয়ার প্রকোপ কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই যারা এমন রোগে ভুগছেন, তারা আয়রনের পাশাপাশি যদি নিয়ম করে কলা খেতে পারেন, তাহলে কিন্তু দারুন উপকার মিলতে পারে।

৮. পুষ্টির ঘাটতি দূর হয়:

শরীরের সচলতা বজায় রাখতে প্রতিদিন নির্দিষ্ট মাত্রায় ভিটামিন এবং মিনারেলের প্রয়োজন পরে শরীরের। আর এসব উপাদানের যোগান শরীর পায় খাবারের মাধ্যমে। সমস্যাটা হল আজকের প্রজন্ম এতটাই ব্যস্ত যে, তাদের হাতে ঠিক মতো খাওয়া-দাওয়া করার সময় নেই। ফলে যা হওয়ার তাই হয়, পুষ্টির ঘাটতি হওয়ার কারণে নানাবিধ রোগ এসে বাসা বাঁধে শরীরে। এমন পরিস্থিতিতে কলা কিন্তু দারুন কাজে আসতে পারে। কিভাবে? এই ফলটির শরীরে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন এবং মিনারেল। সেই সঙ্গে রয়েছে পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, আয়রন এবং ফলেটের মতো উপাদান, যা শরীরকে চাঙ্গা রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই এবার থেকে ঠিক সময় খাবার খাওয়ার সুযোগ না পেলে ২-৪ টে কলা খেয়ে নিতে ভুলবেন না যেন!

৯. ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে থাকে:

কলায় উপস্থিত পটাশিয়াম শরীরে লবণের ভারসাম্য বজায় রাখতে বিশেষ ভূমিকা নেয়। ফলে নিয়মিত কলা খেলে দেহে লবণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার সুযোগ পায় না। ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার কোনও আশঙ্কাই থাকে না।

১০. ধূমপান ছাড়তে:

ধূমপান ছাড়তে হলে বেশি করে কলা খান। কারণ কলায় উপস্থিত ভিটামিন বি৬, বি১২, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম শরীর থেকে নিকোটিনের প্রভাব দূর করতে সাহায্য করে।

আসুন এবার কলা সম্পর্কে কিছু আকর্ষণীয় তথ্য জেনে নেয়া যাক:-

– পৃথিবীর ১০৭টি দেশে কলা জন্মায়।

– কলা গাছের ফুল, ফল, কাণ্ড, মোচা সবকিছুই খাওয়া যায়। রান্নার সময় কলা গাছের পাতা ব্যবহার করা যায়।

– কলা গাছ থেকে সুতা এবং কাগজ তৈরি করা যায়। পাতা ব্যবহার করা যায় বাসন হিসেবে।

– চুলের উজ্জ্বলতা বাড়াতে কলা ও দই মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে ব্যবহার করতে পারেন।

– পা ফাঁটা রোধ করতে গোড়ালিতে কলা ও হলুদের মিশ্রণ মাখাতে পারেন।

– ইতিহাস অনুসারে খ্রিস্ট পূর্ব ৮ হাজার বছর আগেও কলা পাওয়া যেত।

 

তথ্য প্রদানে:  আব্দুল আজিজ ইবনে শফিক, অনার্স (অধ্যয়নরত), ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, ঢাকা কলেজ, ঢাকা।

মতামত দিন