আদর্শ নিউজ ডেস্ক। আব্দুল আজিজ ইবনে শফিক


 

বিশ্বের সর্ববৃহৎ ‘শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট’ উদ্বোধন করা হয়েছে। পুড়ে যাওয়া রোগীদের সুচিকিৎসা ও যোগ্য করে তোলার প্রশিক্ষণে পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহত্তর বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার নামেই এ হাসপাতালটির নামকরণ করা হয়।

প্রতিষ্ঠানটির চিফ কো-অর্ডিনেটর ডা. সামন্ত লাল সেন জানান, এ ইনস্টিটিউট থেকে রোগীদের সর্বোত্তম সেবা দেয়া হবে। অধিক পোড়া রোগীকে চিকিৎসা দেয়ার সুযোগ হবে এবং এখানকার প্লাস্টিক সার্জনরা দেশের চাহিদা পূরণে সক্ষম হবেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ২৪ নভেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ ইনস্টিটিউট নির্মাণের অনুমোদন পায়। ২০১৬ সালের ৬ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চানখাঁরপুলে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ২৭ এপ্রিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোর নির্মাণকাজ শুরু করে। দুই একর জমির ওপর ৯১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় বিশ্বের সর্ববৃহৎ অত্যাধুনিক এ বার্ন হাসপাতালটি।

জানা গেছে, ১২তলা বিশিষ্ট এই ইনস্টিটিউটে পোড়া রোগীদের জন্য থাকছে ৫০০ শয্যা, ১০০টি কেবিন। ৫৪ ইনসেনটিভ কেয়ার ইউনিট, ৬০ শয্যাবিশিষ্ট হাইডেফিসিয়েন্সি ইউনিট, ১২টি অপারেশন থিয়েটার এবং অত্যানুধিক পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে জরুরিভাবে রোগী নিয়ে আসার জন্য ভবনের ছাদে হেলিপ্যাড সুবিধা থাকছে। সোলার প্যানেল ও বৃষ্টির পানি সঞ্চয়েরও ব্যবস্থা থাকবে। পার্কিংয়ে একসঙ্গে ১৮০টি গাড়ি রাখা যাবে। ঢামেক হাসপাতালের পুরাতন ভবনের সঙ্গে একটি ফুটওভার ব্রিজ দিয়ে ইনস্টিটিউট ভবনের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা হবে।

বার্ন ইউনিট সূত্র জানায়, এরই মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার চিকিৎসা সংক্রান্ত যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম কেনার কাজ শুরু হয়েছে। বেশিরভাগ যন্ত্রপাতি জার্মানি থেকে আনা হয়েছে। এছাড়া ইংল্যান্ড, আমেরিকা ও কানাডা থেকে কিছু সরঞ্জাম আনা হবে।

এটি উদ্বোধনের ফলে অসংখ্য পোড়া রোগীর সুচিকিৎসার পাশাপাশি চিকিৎসক ও নার্সদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে এ প্রতিষ্ঠান।

 

মতামত দিন