১লা বৈশাখে “হালখাতা” করা হয়। এর মানে হলো, ব্যবসায়ীগণ বিগত বছরের পাওনাকে উসূল করে নতুনভাবে নতুন খাতার হিসাব খোলেন।

আমাদের জীবনের হালখাতা খোলার জন্য কিন্তু ১লা বৈশাখ লাগে না। যে কোনসময় আজই এক্ষুনি আমরা খালিসভাবে তাওবা করে জীবনের অতীতের আমলের হিসাব করতে পারি। এতে আমাদের অতীত জীবনে মহান আল্লাহর যে হকসমূহ নষ্ট করা হয়েছে, সেগুলোর কাজা আদায়ের ব্যবস্থা করতে পারি এবং ক্ষমা প্রার্থনা করে গুনাহমু্ক্ত হতে পারি। আর আল্লাহর বান্দাদের যে সকল হক নষ্ট করা হয়েছে, সেগুলো পরিশোধের মাধ্যমে দায়মুক্ত হতে পারি। এরপর নতুনভাবে জীবনের হিসাব খুলে আল্লাহর সমূদয় হক ও বান্দার সমূদয় হক পুরোপুরিভাবে আদায় করে জীবনের হালখাতাকে আপটুডেট করতে পারি।

সুতরাং যারা বেনামাযী বা বে-রোযাদার, কিংবা হজ্ব-যাকাত না আদায়ের কারণে অপরাধী হয়েছেন, এক্ষুণি অতীত নামায-রোযা, হজ্ব-যাকাতের হিসাবকে হালনাগাদ করে এখন থেকে পরিপূর্ণভাবে এসব আমল আদায়ে ব্রতী হোন। যারা কোনরূপ নাজায়িয কাজে বা হারাম উপার্জনে লিপ্ত, তারা এক্ষুণি সেসব হারামকে বর্জন করে খালিস দিলে তাওবা করুন এবং জীবনের হিসাবকে হালনাগাদ করে সকল প্রকার নাজায়িয ও হারাম কর্ম থেকে নিজেকে পবিত্র রাখুন।

এমনি করেই আমরা আমাদের জীবনের হালখাতা করে পরকালের জন্য প্রস্তুত থাকতে পারি। অন্যথায় যে কোন সময় আমাদের পরপারে চলে যেতে হবে, তখন আফসোস ছাড়া করার কিছুই থাকবে না।

মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন–
وَأَنِيبُوا إِلَى رَبِّكُمْ وَأَسْلِمُوا لَهُ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَأْتِيَكُمْ الْعَذَابُ ثُمَّ لا تُنْصَرُونَ
“তোমরা তোমাদের পরওয়ারদেগারের দিকে রুজু হও এবং তাঁর আজ্ঞাবহ হও এর পূর্বে যে, তোমাদের নিকট তাঁর আজাব চলে আসবে, অতঃপর কোনরূপ সাহায্য পাবে না।” (সূরাহ যুমার, আয়াত নং ৫৪)

হযরত শাদ্দাদ ইবনে আওস (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন–
الْكَيِّسُ مَنْ دَانَ نَفْسَهُ وَعَمِلَ لِمَا بَعْدَ الْمَوْتِ وَالْعَاجِزُ مَنْ أَتْبَعَ نَفْسَهُ هَوَاهَا وَتَمَنَّى عَلَى اللَّهِ
“বুদ্ধিমান ঐ ব্যক্তি যে নিজের হিসাব নেয় এবং মৃত্যুপরবর্তী জীবনের জন্য আমল করে। আর নাচার-বোকা সেই ব্যক্তি যে তার নফসের কথামতো চলে এবং আল্লাহর কাছে অমূলক আকাঙ্ক্ষা করে।” (জামি‘ তিরমিযী, হাদীস নং ২৪৫৯)

তেমনি হযরত ছাবিত ইবনে হাজ্জাজ (র.) হতে বর্ণিত, হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেন–
حَاسِبُوا أَنْفُسَكُمْ قَبْلَ أَنْ تُحَاسَبُوا ، وَزِنُوا أَنْفُسَكُمْ قَبْلَ أَنْ تُوزَنُوا ، فَإِنَّهُ أَهْوَنُ عَلَيْكُمْ فِي الْحِسَابِ غَدًا ، أَنْ تُحَاسِبُوا أَنْفُسَكُمُ الْيَوْمَ ، وَتَزَيَّنُوا لِلْعَرْضِ الأَكْبَرِ ، يَوْمَئِذٍ تُعْرَضُونَ لا تَخْفَى مِنْكُمْ خَافِيَةٌ
“তোমরা নিজেদের হিসাব নাও এর পূর্বেই যে, তোমাদের হিসাব নেয়া হবে । তোমরা নিজেদেরকে ওজন করো এর পূর্বেই যে, তোমাদেরকে ওজন করা হবে। কেননা, তোমাদের পরকালের হিসাব দেয়ার চেয়ে আজই নিজেদের হিসাব নিজেরাই নেয়া অধিক সহজসাধ্য ব্যাপার। এভাবে তোমরা বৃহত্তর উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুতি নাও। সেদিন তোমাদেরকে উপস্থাপন করা হবে এমনভাবে যে, কোন গোপন বিষয় গোপন থাকবে না।” (মুহাসাবুত নাফস লি-ইবনে আবিদ দুনইয়া, হাদীস নং ২)

মতামত দিন